মলয় দে, নদীয়া:- ধুপকাঠি মোমবাতির যেমন কোন জাত হয় না ঠিক তেমনি সংগীতেরও কোন ধর্ম অথবা জাত হয় না।
নদীয়ার শান্তিপুরের গোপালপুর মুসলমান পাড়া দরগাতলায় গোপালপুর সাধু সেবা কমিটির পক্ষ থেকে গোপালপুর সাধু সেবার ১১৭ বছর ধরে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে আয়োজন করা হয়ে থাকে এক বিশেষ অনুষ্ঠান।
কথিত আছে একসময় এই গ্রামে মহামারী রূপ ধারণ করে। সেই সময় অনেক মানুষ একাধিক চেষ্টা করেও গ্রাম থেকে মহামারী বিদায় করতে পারেনি। সেই সময় পাবনার এক ফকির সাহেব এই গ্রামে উপস্থিত হয়, জানাম তিনার মরজউদ্দিন সা উনি। এই গ্রামের মানুষকে বলেন, গ্রামের মানুষের কাছে ভিক্ষা করে সাধু এবং বালক সেবা করতে। এই সেবার জন্যেই গ্রামের মানুষ মুক্তি পেয়েছিলেন মহামারীর প্রকোপ থেকে। সেই কারণেই এরপর থেকে হয়ে আসছে এই সাধু সেবার আয়োজন।
মূলত এই সাধু সেবায় উপস্থিত হন হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায় সাধু সন্তরাও। মুসলিমদের মধ্যে থাকেন নূর মোহাম্মদ শেখ, শেখ রিপন আশানুর শেখ আইজুল শেখ ইন্তাজ শেখ আমেনা বিবি কুদ্দুস মন্ডল তাহের শেখ শফিউদ্দীন শেখ বুড়ো শেখ মজিদ শেখ আরো একাধিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা, এর পাশাপাশি থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধুরাও যার মধ্যে রয়েছেন রামসূত্রধর বাপন দাস মিলন বাদ্যকর ও আরো অনেকে।
মূলত এশার নামাজ শেষ হওয়ার পর এই অনুষ্ঠান শুরু হয় এই গান চলত আগে দুই দিনব্যাপী তবে বর্তমানে একদিনেই সমাপ্ত করা হয়। চৈত্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এই উৎসবের সূচনা করা হয়।। মূলত লালনের গানের জন্যই আজও এই স্থানে ছুটে আসেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষজন। উল্লেখ্য ধর্ম জাত ইত্যাদি নিয়ে গোটা পৃথিবীতে যে ভেদাভেদের বৈষম্য চলছে বহু প্রাচীন এই অনুষ্ঠান বাংলার বিভিন্ন গ্রাম গ্রামান্তরে চলা এ ধরনের অনুষ্ঠান এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে এ বছরে এই আয়োজন চলে দুই দিন ধরে রয়েছে খাওয়া-দাওয়াও। বর্তমান ভোট আবহে ধর্মীয় অস্থির এক পরিচিতির মধ্যে এই বার্তা দৃষ্টান্ত সকলের কাছে। যেখানে এক সাথে নামাজ বাংলার বহু প্রাচীন সংস্কৃতি চর্চার ধারা আজও অব্যাহত।
