নতুনহাট গোস্বামী বাটি নন্দালয়ে পাঁচ শতাধিক বছরের ঐতিহ্যের শ্রীবিগ্রহ

Social

মলয় দে: নদীয়া জেলার শান্তিপুরের নতুনহাটের নিকটে ডাবরে পাড়া লেনে অবস্থিত “নতুনহাট গোস্বামী বাটি (নন্দালয়)” আজও বহন করে চলেছে এক ঐতিহ্যের দ্যুতি। এই পরিবারের কূলদেবতা শ্রীশ্রী রাধা মদন গোপাল জিউ। কষ্টিপাথর নির্মিত শ্রীমদন গোপাল এবং অষ্টধাতু নির্মিত শ্রীমতি রাধিকার যুগলমূর্তি অতীব প্রাচীন ও শিল্পনৈপুণ্যে অনন্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এই শ্রীবিগ্রহ শ্রীঅদ্বৈত আচার্যের সান্নিধ্য প্রাপ্ত, এমনকি তাঁর দ্বারাই পূজিত ও সেবিত হয়েছিলেন।

ইতিহাস অনুসারে, শান্তিপুরের নাথ বেদ পুরন্দর বেদ পঞ্চানন কমলক্ষ মিশ্র বা শ্রীঅদ্বৈত আচার্যের সময়ে বৃন্দাবনের শ্রীকুঞ্জ তথা শ্রীরাধিকা কুঞ্জ থেকে এই শ্রীবিগ্রহ আনা হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রভুপাদ অদ্বৈত আচার্যের পুত্র শ্রীকৃষ্ণ মিশ্রের বংশধরগণ—বর্তমান নতুনহাট গোস্বামী বাটির গোস্বামী পরিবার—এই বিগ্রহের সেবাপূজা অব্যাহত রাখেন।

অদ্বৈত পরিবারভুক্ত নন্দকিশোর গোস্বামী ও নদীয়ার বিনোদ গোস্বামী পরিবার এই ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। জানা যায়, বিশেষ কিছু কারণে নন্দকিশোর গোস্বামী একসময় পরিবারসহ পূর্ববঙ্গে চলে যান এবং দীর্ঘকাল সেখানেই শ্রীবিগ্রহের সেবা চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৪৬-৪৭ সালের দেশভাগ ও অস্থির পরিস্থিতিতে তাঁর উত্তরসূরি নন্দগোপাল গোস্বামী পুনরায় শান্তিপুরে ফিরে এসে নতুনহাটের নিকটে বর্তমান স্থানে আশ্রয় নেন।

তবে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তিনি নবদ্বীপের সমাজবাড়ি সংলগ্ন নৃসিংহ দেব মন্দিরে শ্রীবিগ্রহকে সংরক্ষণে রাখেন। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর বর্তমান প্রজন্ম সেই বিগ্রহ পুনরায় শান্তিপুরে ফিরিয়ে এনে “নন্দালয়”-এ নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর অতিক্রম করে আসা এই শ্রীবিগ্রহ আজও নিত্য সেবা, পূজা, ভোগ ও আরতির মাধ্যমে ভক্তজনদের আশীর্বাদ প্রদান করছেন। রাস পূর্ণিমার তিথিতে এই প্রাচীন দেবালয় বিশেষভাবে সজ্জিত হয়, এবং দূরদূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ এসে শ্রীশ্রী রাধা মদন গোপাল জিউর দর্শনে ধন্য হন।
এইভাবে ইতিহাস, ভক্তি ও উত্তরাধিকারের মেলবন্ধনে “নতুনহাট গোস্বামী বাটি নন্দালয়” আজও শান্তিপুরের এক অমূল্য সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদ হিসেবে অটুট রয়েছে।

Leave a Reply