মলয় দে: তিন শতাব্দীর প্রাচীন শ্রী শ্রী বলরাম জিউর মঙ্গল ঘট পুজো।নদিয়া জেলার শান্তিপুর ধর্মপ্রাণ ভক্তদের কাছে পরিচিত শুধু বৈষ্ণব সাধনা বা রাসোৎসবের জন্য নয়, এখানেই রয়েছে তিন শতাব্দীরও অধিক প্রাচীন এক অনন্য পুজো শ্রী শ্রী বলরাম জিউর মঙ্গল ঘট পুজো।
নদীয়ার শান্তিপুরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাউড়ি পাড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরে প্রায় ৩৭৫ বছর ধরে মঙ্গল ঘটেই পূজিত হয়ে আসছেন শ্রী বলরাম জিউ। স্থানীয়দের ভাষায়, এই দেবস্থান শান্তিপুরের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
পুরীধামের মতোই এখানে পাশাপাশি অবস্থান করছে দেবী যোগমায়া ও ভগবান বলরামের দুই মন্দির। দুটি মন্দিরেই মঙ্গল ঘটেই পূজা হয়—যা এই স্থানকে করে তুলেছে বিরল বৈষ্ণব ও শাক্ত সাধনার মেলবন্ধনের ক্ষেত্র। মহাজনদের মতে, কলিযুগে কৃষ্ণ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুরূপে ও বলরাম নিতাইরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই এখানে বলভদ্র রূপে নিতাইয়ের ভজনই মূলত পালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তারক বিশ্বাস বলেন, “আমরা সবাই মেহনতি মানুষ। বলভদ্র আমাদের বল ও শক্তি দেন। তাই তাঁকেই আরাধনা করি।”
এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই মঙ্গল ঘটেই পূজা সম্পন্ন হয়। লক্ষ্মী পূর্ণিমা থেকে রাস পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে এই পূজা পর্ব। এই সময় শান্তিপুর জুড়ে পঞ্চকোষী পরিক্রমায় অংশ নেন অসংখ্য বৈষ্ণব ভক্ত, এবং সেই পরিক্রমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরতি ঘটে এই বলরাম মন্দিরেই।
প্রতি বছর রাস উৎসব উপলক্ষে মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় নাম সংকীর্তন ও লীলা কীর্তন। প্রথম রাসে নামসংকীর্তন আর দ্বিতীয় বা মধ্যম রসে পালিত হয় লীলা কীর্তন, যা উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমান। যেহেতু এখানে দেবতা মঙ্গল ঘটে বিরাজমান, তাই বিসর্জনের প্রথা নেই। রাসের পরদিন হয় কুঞ্জভঙ্গ অনুষ্ঠান, এরপর পুনরায় ঘটে মন্দিরে দেবতার স্থাপন করা হয়।
এইভাবেই তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করে শান্তিপুরের বাউড়ি পাড়ার বলরাম জিউ মঙ্গল ঘট পুজো আজও জীবন্ত রেখেছে ভক্তির শক্তি ও পরম্পরাকে।
