৩২ বছরের দুর্গাপুজোয় প্রথা ভেঙে মৃৎশিল্পী হিসেবে পাল নয় ঠাকুর দালানে প্রতিমা বানাচ্ছে পাড়ার ছেলে

Social

মলয় দে নদীয়া:-দুর্গা পুজোর প্রাক্কালে পাড়ার ঠাকুর দালানে প্রতিমা তৈরি করা দেখতে সকাল থেকেই ভিড় কচিকাঁচাদের প্রায় একমাস আগে থেকেই সাজ সাজ রব গৃহিণীরা হাতের কাজ সারার ফাঁকে বয়স্করা শিশুদের মতন প্রায় সারাদিনই কাটাচ্ছেন একটু একটু করে মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী প্রতিমাকে রূপ নেওয়ার পর্যবেক্ষণে। তাইতো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।

তবে অন্যান্য বাড়ির তুলনায় শান্তিপুর সুত্রাগড় ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদে কালিতলায় এবার একটু বাড়তি ভিড় ! কারণ প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন অত্যন্ত জাগ্রত ক্ষুদে কালী মায়ের মন্দিরে ৩২ বছর ধরে হয়ে আসা দুর্গা প্রতিমা এবার কোন মৃৎশিল্পী পাল নয়, ঠাকুর বানাচ্ছে পারারই ঘোষেদের ছেলে সোমনাথ।
সে অবশ্য ছোটবেলা থেকে মিনিয়েচার ঠাকুর বানাতে অভ্যস্ত তার তৈরি প্রতিমা সামাজিক মাধ্যমে ভর করে পৌঁছেছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও। তখন অবশ্য সে স্কুলের ছাত্র ছিল বর্তমানে সে পলিটিকাল সায়েন্স নিয়ে চাকদহ কলেজে পাঠরত। বয়স এবং অভিজ্ঞতায় সামান্য কিছুটা বড় হলেও এবারে মস্ত বড় দায়িত্ব পেয়েছে সে। পাড়ার প্রবীণরাই তার তৈর ছোট ছোট প্রতিমা বানানো দেখে ভরসা রেখেছে পাড়ার ছেলের ওপর। ৮ ফুট উচ্চতা ৬ ফুট চওড়ার এই দুর্গা প্রতিমা মাঝখানেক আগে প্রথম কাঠামোতে বিচুলি বাঁধে সোমনাথ। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কখনো সকালে কখনো বিকালে এমনকি মাঝেমধ্যে রাতেও সময় দেয় সে তবে সহযোগী হিসেবে এখনো কাউকে নেয়নি কারণ তার সময়ের ঠিক নেই যে। তবে সে ঠাকুর দালানে এলেই সমবয়সী কিংবা ছোট অথবা একটু বড় দাদারা তাকে সহযোগিতা করছে নানান ভাবে।
এবছরের পুজো উদ্যোক্তারা জানাচ্ছে কোনরকম ছাঁচ ব্যবহার করে নয়, সোমনাথ সম্পূর্ণ নিজে হাতে বানাচ্ছে সব কিছু এখনো পর্যন্ত সব ঠিকঠাক, তবে ভিন জেলার মানুষ যদি তাকে ভরসা করতে পারে তারে আমরা পাড়ার বারোয়ারি কেনো ভরসা করব না তাকে তার থেকেও বড় কথা তার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে সেটা আমরা দেখেছি বারে বারে।
সোমনাথ অবশ্য এই গুরুত্ব পেয়ে একটুও দুশ্চিন্তায় নেই সে জানাচ্ছে, এটা তার কাছে পরম প্রাপ্তি এবং সৌভাগ্য কারণ অত্যন্ত জাগ্রত এবং বহু প্রাচীন এই ক্ষুদে কালি মায়ের মন্দির এখানে ছোটবেলায় আজকে তার কাজ দেখতে আসা বাচ্চাদের মতোই সেও একদিন তাকিয়ে দেখতো মৃৎশিল্পী পালদের কাজ। স্কুল কিংবা পড়তে যাবার সময় শান্তিপুরের বিভিন্ন মৃৎশিল্পী কারখানায় দাঁড়িয়ে দেখতে দেখতেই শিখে গেছে। আগামীতেও হয়তো এই পাড়া থেকেই কেউ বানাবে ঠাকুর এমনটাই মনে করছেন পাড়ার প্রবীণরা।
ওয়ার্ড কাউন্সিলরও আত্মবিশ্বাসী এবছর তাদের প্রতিমা কোন অংশেই কম হবে না বিগত বছরের তুলনায়। কারণ ব্যবসায়িক মানসিকতা নয় পাড়ার আবেগ এবং শিল্পের প্রতি অসম্ভব ঝোঁক আগ্রহ আগামী দিন তাকে মস্ত বড় শিল্পী করে তুলবে।

Leave a Reply