ছাত্রীদের খেলার ছলে শেখানোর অভিনব আয়োজন বালিকা বিদ্যালয়ে

Social

‌‌অভিজিৎ হাজরা, উদয়নারায়ণপুর, হাওড়া :- গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর বিধান সভার অন্তর্গত শিবপুর গ্রামের ” বিরাজলক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয় ” এ ছাত্রীদের খেলার ছলে বিভিন্ন পাঠ্য বিষয় ও পাঠ্য বর্হিভূত শিক্ষামূলক বিষয় শেখানোর জন্য এক অভিনব কর্মসূচী গ্রহণ করে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শ্রীঙ্কা রায়ের বিশেষ উদ্যোগে ও ” বাংলা ভাবনা পরিক্রমা ” – র ব্যবস্থাপনায় একটি সম্মিলিত কর্মসূচী রূপায়িত হল। এই অভিনব শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যোগদান করে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা, শিক্ষিকাগণ, অভিভাবকবৃন্দ এবং পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উৎসাহী ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিকাগণ।

কার্যক্রমের প্রথমে ও শেষে দুটি শিক্ষামূলক তথ্যচিত্র দেখানো হয় এবং অত্যন্ত মনোগ্রাহীভাবে তথ্যচিত্র প্রদর্শণের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব ও পুরষ্কার স্বরূপ ছাত্রীদের একটি করে পুস্তিকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কার্যক্রমের আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি করে ‘অলৌকিক না লৌকিক’ শীর্ষক একটি কর্মশালা। এখানে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, ঝাড়-ফুঁক, তুকতাকের ব্যাখ্যা করে তার পিছনে লুকিয়ে থাকা সত্য ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সুন্দর ভাবে ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয়। ‌ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তথ্যচিত্র দুটির বিষয়বস্তু ছিল ‌” স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী ” ও ” বিজ্ঞান চর্চায় বাঙালি বিজ্ঞানী ” । ‌ ‌” স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী ” এই অবতারণায় বলা হয়, স্বাধীনতা প্রাপ্তির আনন্দে ভারতবাসীর হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা প্রাপ্তির ইতিহাস লেখা হয়েছে। সেই ইতিহাস পূঙ্গাঙ্গ নয়।যে ইতিহাস শুধুমাত্র পুরুষদের অগ্ৰাধিকার দেয় , সেই ইতিহাস অসম্পূর্ণ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষরা যখন এগিয়ে এসেছেন ,তখন পুরুষদের এগিয়ে দিয়েছেন নারীরা। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষদের সঙ্গে নারীদের ও অবদান সমান। তবুও ভেবে দেখার অবকাশ পাই নি, পরাধীনতার অভ্যস্থ মানুষ, স্বাধীনতার মর্ম কতটুকু উপলব্ধি করছি। যাঁদের রক্তঝরা আত্মত্যাগে,সংগ্ৰামে যতটুকু স্বাধীনতা পেয়েছি, তাঁদের কেউ বেঁচে আছেন কিনা, থাকলেও কোথায়,কেমন ,কী অবস্থায় আছেন তাঁদের খোঁজ নিই নি। স্বাধীনতা সংগ্ৰামী পুরুষদের সঙ্গে নারী বীরাঙ্গনাদের, বিপ্লবী বঙ্গবালাদের কতখানি আত্মত্যাগ, লাঞ্চিতা, অপমানিতা,নারিত্ব খুইয়ে ও সংগ্ৰাম থেকে তাঁরা কখনও বিচ্যুত হয় নি।এত সত্বেও ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁদের সবার স্থান হয় নি। অনেক বীরাঙ্গনা, বিপ্লবী,বঙ্গবালারা শেষ জীবনে ও স্বাধীন বাংলায় উপেক্ষিতা – অবহেলিতা থেকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁরা স্থান না পেলেও তাঁরা রয়েছেন সবার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে। থাকবেন আগামী প্রজন্মের অন্তরে জীবন্ত কিংবদন্তি উজ্জ্বল নক্ষত্রসমরুপে। ‌” স্বাধীনতা সংগ্ৰামে নারী ” ,” বিজ্ঞান চর্চায় বাঙালি বিজ্ঞানী ” এবং ” অলৌকিক নয় লৌকিক ” বিষয় গুলি ছাত্রী, শিক্ষিকা , উপস্থিত অভিভাবক – অভিভাবকদের সামনে উপস্থাপন করেন ” বাংলা ভাবনা পরিক্রমা ” – র সংগঠক ও সদস্য – সদস্যা অম্লান, মধুরিমা, শ্রেয়া,সুমন, সুরজিৎ।
উপস্থিত ছাত্রী, শিক্ষিকা, অভিভাবক – অভিভাবকরা এই উপস্থাপিত বিষয় গুলি যে মনোযোগ সহকারে শুনেছেন তা প্রমাণ হলো কুই্যজ এ অংশগ্ৰহণ ও সঠিক উত্তরদানে।
কার্যক্রমের শেষে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকা শ্রীঙ্কা রায় সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ছাত্রীদের গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের মনে যে অলৌকিক বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত আছে, তার থেকে ছাত্রীদের মন সরিয়ে প্রকৃত সত্য প্রতিবেশীদের মধ্যেও প্রচারের জন্য আহবান জানান। এইরূপ কর্মসূচী পুনরায় বিদ্যালয়ে করবার ইচ্ছা প্রকাশ করে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply