বর্ষায় বনসৃজন এর অভিনব ভাবনা! বীজের রাখি নজর কেড়েছে বাংলায়

Social

মলয় দে নদীয়া:-চোখ খুললেই সবুজের ছোঁয়া হাতে পড়া রাখিতে লাউ, কুমড়া , শসা লেবু এবং পেয়ারার বীজ। রাখি পড়লেই মনে পড়ে যাবে গাছের কথা এবং পরিবেশের কথা। এবং এই রাখি মনে করিয়ে দেবে শিশু পাচার নারী পাচার বাল্যবিবাহ এর মতো সামাজিক কথা গুলি কেও।
নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভাঙে প্রতিবছর। এ বছরও তার অন্যথা হল না। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের চন্দননগর সমবায় সমিতির স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নতুন রাখি বাজারে আনলেন। লাউ কুমড়োর বীজ, শসার বীজ ও পেস্তা বাদামের খোলা দিয়ে অভিনব রাখি তৈরি করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে পাঁচ টাকা, দশ টাকায় মিলছে এই অভিনব রাখি । বিগত বছরের রাখির সংগ্রহও থাকছে, যেমন পাটের তৈরি, কাঠের গুঁড়ো, কচুরিপানা, ধানের তৈরি, কাপড়ের তৈরি, তালপাতার রাখি। এই সমস্ত রাখি সাধারণ মানুষের হাতে যাতে পৌঁছায়, সেই জন্য মূল্য রাখা হয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ফলে বাজারে এই রাখির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। নজর করা রাখি ব্লক থেকে জেলা ,জেলা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে । আর এই রাখি বানিয়েই মেয়েরা স্বনির্ভর হচ্ছেন। চন্দননগর সমবায় সমিতির ম্যানেজার দেবব্রত বিশ্বাস জানান, তাঁদের স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা প্রতিবছর রাখিতে অভিনবত্ব আনেন। যার ফলে বাজারে এই রাখি র চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেয়েদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ফলেই তারা জেলার মধ্যে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী হিসেবে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মধ্যেই নয় নদীয়া জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সমিতির ম্যানেজার দেবব্রত বিশ্বাস মহিলাদের ভুয়সী প্রশংসা

করেছেন। তিনি জানান, কাঞ্চন বাগচী, বিশাখা ঠাকুরদের মত স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তাঁরা অনন্য নজির স্থাপন করতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, মেয়েরা যেভাবে চন্দননগর সমবায় সমিতির মুখ উজ্বল করেছেন, সেই জন্য সমিতি সবসময় তাঁদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। পেশাল অফিসার মিঠুন বিশ্বাস ও সমবায় পরিদর্শক অর্ণব সরকার জানান, মেয়েরা ভালো কাজ করলে তাঁরা সবসময় পাশে থাকবেন এবং তাঁদের কাজের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। ইতিমধ্যেই উৎকর্ষ বাংলা ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। মেয়েরা পাটের তৈরি সামগ্রী এবং টেডি বিয়ার তৈরির উপর ট্রেনিং করছেন। ভবিষ্যতে আরও নতুন ট্রেনিং দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও কো-অপারেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে টেলারিং-এর উপর বহু ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনিং-এর মাধ্যমে মেয়েরা স্বনির্ভর হয়েছেন ও নিজেরা রোজগার করছেন। অন্যদিকে গোষ্ঠীর মহিলাদের পক্ষ থেকে বিশাখা ঠাকুর জানান, তাঁদের পাশে সবসময় সমবায় সমিতিকে পাওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, তাঁদের সংস্থার পক্ষ থেকে চন্দননগর সমবায় সমিতিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। বলা যেতেই পারে পরিবেশ বন্ধক রাখি বানিয়ে চন্দননগর সমবায় সমিতির রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছে ।

Leave a Reply