মলয় দে, নদীয়া:- দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে পারে একমাত্র ফুল! হ্যাঁ সাথে দূর্বা বেল পাতা তুলসী তো বটেই।
তবে ঠিক কোন ফুলে কোন দেবতা সন্তুষ্ট অর্থাৎ ভক্তবৃন্দের ফল লাভ হবে তা হয়তো জানা নেই অনেকের।
যেমন ধরুন, সরস্বতী ঠাকুরের ক্ষেত্রে সাদা গোলাপ এবং পলাশ, কালীমাতা খুশি লাল জবা তে, লক্ষীদেবী র পছন্দ পদ্ম, দেবী দুর্গা পূজিত হন শিউলি এবং সাদা পদ্ম, শ্রীবিষ্ণু খুশি হন সাদা যে কোন ফুলে, গণেশ অবশ্য দূর্বা , সাদা চাঁপা যেকোনো লাল ফুল তবে তুলসী কখনোই নয়! গোপাল পুজোতে করবি, গাঁদা, মালতি, পলাশ, চলে তবে এক্ষেত্রেও তুলসী দেওয়া শাস্ত্রবিরুদ্ধ। শ্রীকৃষ্ণের আবার খুব পছন্দের তুলসী এবং শ্বেত করবী, গন্ধরাজ। রাধা অবশ্য খুশি মাধবীলতা, বজরঙ্গবলী পুজোয় লাল এবং হলুদ যেকোনো ফুল চলে। নারায়ণ পূজার অন্যতম উপাদান তুলসী, জুই কদম, মালসিরি, মালতি বাসন্তী চম্পা! তবে দেবাদিদেবের সবচেয়ে পছন্দের ফুল ধুতরো, নীলকন্ঠ, আকণ্ড এবং বেল। তবে বেল বলতে সুগন্ধি বেলিফুল নয়, ফল হিসেবে ব্যবহৃত বেলের পূর্বে যে ফুল হয় সেই ফুল অত্যন্ত প্রিয় মহাদেবের। যদিও খুব এ সময় সহজলভ্য নয় তাই আকণ্ড নীলকন্ঠ এবং ধুতুরোর উপর নির্ভর করে পূজারী এবং ভক্তবৃন্দ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ছাত্রী একাদশীর নির্জলা উপবাস করলে যে পূর্ণ লাভ করা যায় তা, শিবরাত্রিতে ভক্তিভরে একটি ধুতুরা বা আকন্দ ফুল নিবেদন করে শিবলিঙ্গে এক ঘটি জল ঢাললে সেই পুরনো লাভ করা যায়।
তবে শিব পুরাণ অনুযায়ী জানা যায়, দেবাদিদেব এর সবচেয়ে প্রিয় ফুল ছিল চাঁপা, কিন্তু তাদের যদি কেউ পুজো করে, ঘটবে অনিষ্ট হবে অনাচার! কিন্তু কেনো?
তা জেনে নেব আজ।
দাক্ষিণাত্যের গোকর্ণ পুরে এক মন্দিরে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে মনস্কামনা পূর্ণ হচ্ছে সব ভক্তদের! স্বর্গলোকে একথা কানাঘুষো হতেই, নারদের স্বচক্ষে দেখার ইচ্ছা জাগলো। ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধরে, পৌঁছালেন সেই মন্দিরে, যেখানে চারিদিকে সুন্দরবনের মধ্যে একটি চাঁপা গাছে ফুটে রয়েছে অসাধারণ ফুল! তারই তলায় দাঁড়িয়ে এক ব্রাহ্মণ! হাতে ফুলের সাজেতে ঢাকা দেওয়া! নারদ জিজ্ঞাসা করলেন, কি আছে ওতে? ব্রাহ্মণ মিথ্যা বললেন ভিক্ষার চাল! সন্দেহ দূর করার জন্য নারদ পূজারীকে জিজ্ঞাসা করলেন, পূজারী সবিস্তারে জানালেন, লোভী ব্রাহ্মণ এক বৃদ্ধার সর্বস্ব হাতিয়েছে! মহাদেব কে খুশি রাখার জন্য, এবং অন্য কোন ভক্ত যাতে ওই ফুল না পায় সে কারণে, সকলের আগে এসে সমস্ত ফুল পেড়ে নিজে পুজো দেয়, একটিও ফুল না পেয়ে বৃদ্ধা বসে থাকে , শিবলিঙ্গের পাশে। নারদ ব্যথিত হয়ে দেবাদিদেব কে সকল বিষয় জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হন হন, সেদিন থেকে নিষিদ্ধ হয় চাঁপা।