শীতের মুখে সেজে উঠবে ছাদবাগান: জোরকদমে চারা তৈরির ব্যস্ততা
মলয় দে: শীতের আগমন মানেই ডালিয়া, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকার রঙে চারপাশ রঙিন হয়ে ওঠা। বর্তমান নগরায়নের যুগে মানুষের মধ্যে ছাদবাগান এবং ইন্ডোর প্ল্যান্ট বা গৃহসজ্জার গাছের প্রতি আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গৃহিণী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গাছ লাগানোর এই প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করতে শীতকালীন ফুল ও ফলের বিপুল সম্ভার নিয়ে প্রস্তুত নদিয়ার শান্তিপুরের ৩ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ‘গুহ নার্সারি’।
নার্সারির কর্ণধার দেবু গুহ জানান, তাঁদের এই নার্সারির ইতিহাস প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছরের পুরনো। তাঁর বাবার সময়কালে মূলত স্থানীয় চাষিদের জন্য বিভিন্ন শাকসবজির চারা তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে এলাকায় চাষের জমি কমে যাওয়া এবং নগরায়নের কারণে গত প্রায় ২৬ বছর ধরে তাঁরা ফুল ও শৌখিন গাছের চারা উৎপাদনের দিকে বিশেষ জোর দেন। বর্তমানেও গৃহস্থের জন্য অল্পবিস্তর সবজির চারা তৈরি হলেও মূল আকর্ষণ শীতকালীন বাহারি ফুল। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকার মতো মরসুমি ফুলের পাশাপাশি এখানে বছরভর পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির জবা, কাগজফুল (বোগেনভিলিয়া) এবং নানা ইন্ডোর প্ল্যান্ট।
ফুলের পাশাপাশি শীতকালীন ফল ও বারোমাসি ফলের কলমের চাহিদাও তুঙ্গে। মৌসাম্বি, কমলালেবু, পাতিলেবু থেকে শুরু করে আম, কাঁঠাল, সবেদা ও পেয়ারার উন্নত জাতের চারা সবই ছোট ছোট গ্রো-ব্যাগ ও প্যাকেটে তৈরি করে রাখা হয়েছে, যাতে যে কেউ সহজেই টবে বা বাগানে প্রতিস্থাপন করতে পারেন।
পরিবেশ প্রসঙ্গে দেবু গুহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে প্রকৃতিতে অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের মোবাইল ও অন্যান্য ক্ষতিকর নেশা থেকে দূরে থাকার জন্য বৃক্ষরোপণই অন্যতম সেরা মাধ্যম। এতে শরীর ও মন যেমন ভালো থাকে, তেমনই পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁদের নার্সারিতে রাসায়নিকের বদলে মূলত জৈব ও বায়ো-কেমিক্যাল সার ব্যবহারেই বেশি জোর দেওয়া হয়।
স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ট্রেন, বাস ও কুরিয়ার মারফত সারা ভারতে চারা পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সরাসরি নার্সারিতে এসে পছন্দমতো চারা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে শীতের আগমনকে ঘিরে এখন শান্তিপুরের এই নার্সারিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
