দীপ কুমার রায়,নদীয়া: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durgapujo) আসতে এখনও মাস ছয়েকের দেরি। মাটির পুতুলের বিশ্বজোড়া খ্যাতির পর এবার কৃষ্ণনগরের তৈরি প্রতিমার ‘সাজ’ পাড়ি দিচ্ছে সুদূর লন্ডনে। প্রখ্যাত সাজশিল্পী রাজকুমার করের কর্মশালায় এখন সাজ সাজ রব। জাহাজে করে সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে এই শিল্পকর্ম সময়মতো পৌঁছাতে হয় বলেই অনেক আগেভাগেই শুরু হয়েছে ব্যস্ততা।
কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্য:
কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের পাশাপাশি এখানকার ডাকের সাজ বা প্রতিমার সাজের চাহিদা ভারতবর্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন বিদেশের মাটিতেও সমাদৃত। শিল্পী রাজকুমার করের হাতের কাজ এবার লন্ডনের একটি ফাইবার দুর্গা প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধন করবে। বিদেশের পুজোয় সাধারণত স্থায়িত্বের কারণে ফাইবার প্রতিমা ব্যবহার করা হয়, আর সেই প্রতিমাকে সাবেকি আভিজাত্য দিতে কৃষ্ণনগরের এই বিশেষ সাজের কোনো বিকল্প নেই।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাজশিল্প:
এই শিল্প শুধু ঐতিহ্যের বাহক নয়, বরং কৃষ্ণনগরের স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বড় চালিকাশক্তি।
কর্মসংস্থান: শিল্পী রাজকুমার করের অধীনে বর্তমানে ২০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন।
নারীর ক্ষমতায়ন: এই শিল্পের সবথেকে ইতিবাচক দিক হলো নারীর অংশগ্রহণ। ঘরের কাজের পাশাপাশি এই সূক্ষ্ম কাজের মাধ্যমে বহু মহিলা আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে।
কাঁচামাল ও নির্মাণ শৈলী :
সাজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন— চুমকি, পুঁতি, আঠা, রঙিন কাগজ ও জরির কাজ মূলত কলকাতার বড়বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় প্রতিমার মুকুট, অলঙ্কার এবং চালচিত্রের কারুকাজ। এক একটি সাজ তৈরি করতে যেমন ধৈর্যের প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন গভীর একাগ্রতা।
কৃষ্ণনগরের এই শিল্পীদের হাত ধরেই বাংলার লোকশিল্প আজ বিশ্বজনীন। জাহাজে করে এই সাজ যখন লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, তখন তার সঙ্গে যাবে বাংলার সংস্কৃতি আর শত শত শিল্পীর শ্রম ও ভালোবাসা।
