মলয় দে নদীয়া: প্রোমোটারদের জমি দখলের চক্রান্ত ব্যর্থ করতে এবং মজে যাওয়া নদী সংস্কারের দাবিতে এবার সরব হলো নদীয়ার শান্তিপুরের ‘হরিপুর হরিণদী কল্যাণ সমিতি’। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং নদীকে তার পুরনো প্রাণ ফিরিয়ে দিতে আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে নদীর জলে প্রচুর মাছের চারা ছাড়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে শান্তিপুরের হরিণদী ক্রমশ মজে যাচ্ছে। নদীর জলস্তর কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার মৎস্যজীবী পরিবারগুলো। অভিযোগ, নদীর এই বেহাল দশার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু প্রোমোটার ক্রমশ নদীর জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অসাধু চক্রান্ত রুখতেই একজোট হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীরা। তাদের রুটিরুজি বাঁচাতে এবং দখলদারদের কড়া বার্তা দিতেই আজ মাছের চারা ছাড়ার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে হরিপুর হরিণদী কল্যাণ সমিতি।
এদিন নদী সংস্কারের দাবিতে রীতিমতো সরব হন সংগঠনের সদস্যরা। রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের স্পষ্ট এবং জোরালো প্রশ্ন, “শ্রীচৈতন্যদেবের স্মৃতিবিজড়িত সুরধ্বনি নদী যদি এত বছর বাদে সরকারের উদ্যোগে খনন ও সংস্কার করা সম্ভব হয়, তবে হরিণদী নয় কেন?”
আন্দোলনকারীদের দাবি, হরিণদী এই এলাকার ভৌগোলিক, পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবিলম্বে এই নদী খনন করা না হলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বহু মৎস্যজীবী পরিবার চরম সংকটের মুখে পড়বে।
অবিলম্বে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতর এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে হরিণদী সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। এখন দেখার, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের এই জোরালো দাবির পর হরিণদী বাঁচাতে প্রশাসন দ্রুত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।
