মলয় দে নদীয়া:- মাথায় উলের টুপি, গলায় মাফলার—শীতের এই চেনা আমেজ এখনো কাটেনি পুরোপুরি। ফাল্গুনের শেষেও ভোরের কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কথা। কিন্তু বাজারের চিত্র ভিন্ন। ফলের দোকানে থরে থরে সাজানো রসালো তরমুজ। সাধারণত প্রচণ্ড গরমে যে ফলের কদর থাকে তুঙ্গে, অসময়ের ঠাণ্ডায় সেই তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রি নেই বললেই চলে, তবে এই মন্দা বাজারে ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করছে পবিত্র রমজান মাস।
চাহিদায় ভাটা, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ নেই। বিক্রেতারা বলছেন, তরমুজ মূলত তপ্ত দুপুরের স্বস্তি। কিন্তু এবার আবহাওয়া এমনভাবে বদলেছে যে মানুষ এখনো ঠাণ্ডা পানীয় বা রসালো ফল থেকে দূরে থাকছে।
পাইকারি বিক্রেতা জানান, “মাথায় টুপি আর গলায় মাফলার দিয়ে কি আর তরমুজ বিক্রি হয়! মানুষ শীতে কাঁপছে, তরমুজ কিনবে কে? অন্যান্য বছর এই সময় ৭- ৮ কুইন্টাল প্রতিদিন বিক্রি হয় ,গাড়ি আসে সপ্তাহে তিন-চারটে , কিন্তু বর্তমানে সপ্তাহে একটি গাড়ি! তবে সবচেয়ে উৎকৃষ্টতম হলো ব্যাঙ্গালোরের অন্যান্য বছর দোকান না দিতে পারার কারণে সাদা সবুজ ডুরে কোচবিহারের খরমুজ আনা হয় এবছর কালো তরমুজই বিক্রি হচ্ছে না। অনেক মাল নষ্ট হওয়ার পথে।”
তবে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রেখেছে রোজা
বিক্রেতাদের চোখেমুখে যখন হতাশার ছাপ, ঠিক তখনই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে পবিত্র রমজান। দিনের বেলায় সাধারণ ক্রেতা না থাকলেও ইফতারের দস্তরখানের জন্য তরমুজের চাহিদা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও রোজাদাররা ইফতারে প্রশান্তি পেতে তরমুজ কিনছেন। মূলত এই চাহিদাই এখন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ব্যবসায়ীদের আশা, গরম পড়লে এবং রোজা আরও এগোলে তরমুজের বাজার চাঙ্গা হবে। বর্তমানে কেবল ইফতারি নির্ভর বিক্রি দিয়ে কোনোমতে টিকে আছেন তারা। তবে অসময়ের বৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা থাকলে বড় ধরণের লোকসানের সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।
