মহাপ্রয়াণ দিবসে গান্ধীজিকে স্মরণ ‌

Social

অভিজিৎ হাজরা, আমতা, হাওড়া :- কেউ তাঁকে বাপু বলেন। আবার কেউ তাঁকে মহাত্মা বলেন। স্বাধীনতা লড়াইয়ে ভারতীয়দের পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সত্যাগ্ৰহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের ওপর,যা ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ রা অক্টোবর পোরবন্দরের হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গান্ধী বিশ্ব জুড়ে ‘ মহাত্মা ‘ ও ‘ বাপু ‘ নামে পরিচিত।ভারত সরকার সম্মানার্থে তাঁকে ভারতের ‘ জাতির জনক ‘ আখ্যা দিয়েছেন। অনেক প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা গান্ধী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেতা মার্টিন লুথার কিং ও জেমস লওসন গান্ধীর অহিংস নীতির আলোকে নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও গান্ধীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার ছিল তাঁর ৭৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। তার প্রায় দেড় বছর পর ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর ৭৮ বছর বয়সে, দিল্লির বিরলা হাউসে আততায়ীরা তাঁকে হত্যা করে। তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের প্রধান রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্ৰগামী ব্যক্তিদের একজন।৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার মহাত্মা গান্ধীর হত্যার ৭৯ বছর পূর্ণ হলো। সারা ভারত ঘুরে বেড়ানো মহাত্মা গান্ধী শেষ সময়ে দিল্লির বিরলা হাউসে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে সকালে ও সন্ধ্যায় প্রার্থনা সভা হতো। প্রতিদিনই অংশ নিতেন কয়েক ‘ শ মানুষ। ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ সন্ধ্যায় প্রার্থনা সভার জন্য গান্ধিজী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।ঠিক সেই মুহূর্তে নাথুরাম গডসে নামে আততায়ী খুব কাছ থেকে গান্ধিজীর বুক লক্ষ্য করে পিস্তলের তিনটি গুলি ছোঁড়ে। গুলি ছোঁড়ার আগে গডসে গান্ধিজীর দিকে ঝুঁকে প্রণাম ও করেছিলেন। ‌ স্থানীয় সময় বিকাল ৫ টা ১৭ মিনিটে মৃত্যু হয় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর। তাঁকে হত্যার দায়ে গডসেকে ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর ফাঁসির দন্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার সহযোগী নারায়ণ আপ্তের ও ফাঁসি হয়েছিল। গান্ধিজীর ৭৯ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আমতা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে অফিস গৃহের পাঠকক্ষে। অফিস গৃহের পাঠকক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভা ও গান্ধিজীর প্রিয় সংগীত ‘ রামধূন ‘ পরিবেশন এবং আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হল। ‌ অনুষ্ঠানের শুরুতেই গান্ধিজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন শিক্ষক – কবি- প্রাবন্ধিক বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপস্থিত আমতা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মীবৃন্দ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অন্যতম কর্মী অমৃতা চক্রবর্তী এবং বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় গান্ধিজীর জীবনী, কর্মযজ্ঞ, স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা – র উপর আলোকপাত করেন।গান্ধিজীর প্রিয় সংগীত ‌’ রামধূন ‘ পরিবেশন করেন অসিত মালিক ও সম্প্রদায়। দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন সমর কর ও সম্প্রদায়, অসিত মালিক ও সম্প্রদায়। সর্বধর্ম প্রার্থনা সভায় ‘ গীতা ‘ থেকে পাঠ করেন গুরুপ্রসন্ন সরখেল। ‌’ কোরাণ ‘ থেকে পাঠ করেন সেখ নিজামুদ্দিন।’ বাইবেল ‘ থেকে পাঠ করেন ফাদার অভিজিৎ হাজরা। সবশেষে গান্ধিজীর প্রিয় ‘ রামধূন ‘ সংগীত সমবেতভাবে পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে সর্বধর্মের মানুষ প্রার্থনা সভায় যোগদান করেন। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সঞ্চলনা করেন অমৃতা চক্রবর্তী।

Leave a Reply