সরস্বতী পুজোর প্রীতিভোজে ছিল একাধিক স্টল এবং মেনুতে রাখা হয় বেবি কর্ন ক্রিসপি, চিকেন রেশমী কাবাব, চিকেন হারিয়ালি কাবাব, মটরশুঁটির কচুরি ও কাশ্মীরি আলুর দম, ফ্রাইড রাইস, চিকেন কষা, আমের চাটনি, পাপড়, রসগোল্লা এবং আইসক্রিম

Social

মলয় দে: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজকীয় সরস্বতী পুজোর প্রীতিভোজ, নজির শান্তিপুরের বাইগাছিপাড়া কৃত্তিবাস প্রাইমারী স্কুল
শান্তিপুরের বাইগাছিপাড়া কৃত্তিবাস প্রাইমারী স্কুলে এবছর সরস্বতী পুজোর প্রীতিভোজ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

স্কুলের সরস্বতী পুজোর মেনু দেখে অবাক ক্যাটারিং পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও। প্রায় ২০–৩০ বছর ধরে ক্যাটারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ ধরনের রাজকীয় আয়োজন অনেক সময় বড়সড় বিয়ে বাড়িতেও দেখা যায় না। অথচ সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ জনের জন্য এমন ভোজ সত্যিই ব্যতিক্রমী।
এবছর সরস্বতী পুজোর প্রীতিভোজে ছিল একাধিক স্টল। মেনুতে রাখা হয় বেবি কর্ন ক্রিসপি, চিকেন রেশমী কাবাব, চিকেন হারিয়ালি কাবাব, মটরশুঁটির কচুরি ও কাশ্মীরি আলুর দম, ফ্রাইড রাইস, চিকেন কষা, আমের চাটনি, পাপড়, রসগোল্লা এবং আইসক্রিম। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা তিন শতাধিক হলেও এই প্রীতিভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিভাবক, পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অগ্নিশ্বর বসাক জানান, অন্যান্য সরকারি বিদ্যালয়ের মতোই সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ছাত্রদের কাছ থেকে মাত্র ৩০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত সহযোগিতায় এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, মূল উদ্দেশ্য শিশুদের স্কুলমুখী করে তোলা এবং বিদ্যালয়কে আনন্দমুখর পরিবেশে রূপ দেওয়া।
অভিভাবকদের দাবি, শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি জন্মদিন পালন, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, নাচ-গান ও আবৃত্তি শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি মিড ডে মিলেও মাঝেমধ্যেই থাকে বিশেষ চমক। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস, শীতকালীন পিকনিক কিংবা ১৫ই আগস্টে ছাত্রদের মধ্যে চাওমিন বিতরণ—সব মিলিয়ে স্কুলটি হয়ে উঠেছে শিশুদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র।
এই সব কারণেই সরকারি হওয়া সত্ত্বেও বাইগাছিপাড়া কৃত্তিবাস প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য অন্ধকার রাত থেকেই অভিভাবকদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। শিক্ষা ও আনন্দের এমন মেলবন্ধনই আজ এই বিদ্যালয়ের পরিচয়।

Leave a Reply