সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার নজির গড়লেন স্বাস্থ্যকর্মী

Social

সোশ্যাল বার্তা: ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী টিবিমুক্ত ভারত অভিযান সংক্ষেপে (PMTBMBA)প্রকল্প শুরু হয়েছে বিগত ২০২২ সাল থেকে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ভারতেরবর্ষের প্রত্যেক টিবি রোগীকে চিকিৎসা চলাকালীন বা চিকিৎসা পরবর্তী সময়েও তাকে অতিরিক্ত পুষ্টি সহায়ক খাবার প্রদান করা। আর এই খাবার যারা প্রদান করবেন তাদেরকে সরকার নাম দিয়েছেন নিক্ষয় মিত্র। আসলে যক্ষ্মা একটি ক্ষয় রোগ এই রোগে আক্রান্তের মূল কারণ হচ্ছে তার পুষ্টিজনিত ঘাটতি তাই অতিরিক্ত ঘাটতি পূরণের জন্য দেশ তথা রাজ্য ব্যাপী সর্বস্তরের মানুষ প্রতিষ্ঠান সংগঠনের কাছে আবেদন তারা টিবি রোগীদের পাশে এসে দাঁড়ান তাদেরকেও অতিরিক্ত পুষ্টি সহায়তা করুন। তাতে দ্রুত চিকিৎসায় উন্নতি লাভ করবে এবং এই রোগের দ্বারা মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেকাংশে কমবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের অভিমত।

এই ডাকেই সারা দিয়ে নদীয়া জেলার প্রশাসনিক বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এগিয়ে এসে টিবি রোগীদের সহায়তা করে চলেছেন। তবে তেহট্ট ১ ব্লকের নাজিরপুর গ্রামীণ হাসপাতালের অন্তর্গত নুরজাহান বেগম এবং মৌসুমী বিশ্বাস দুজনেই পেশায় কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে একজন করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের টিবি রোগীকে দত্তক নিলেন ৬ মাসের জন্য। সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পকে দূরে সরিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়েও টিবি রোগীকে দত্তক নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিলেন তার এই মহৎ কাজের মধ্য দিয়ে।

এই অভূতপূর্ব কর্মসূচির সময় উপস্থিত ছিলেন তেহট্ট সাব ডিভিশনের সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক  ডাঃ বাপ্পা ঢালী মহাশয় ও নাজিরপুর গ্রামীণ হাসপাতালের আধিকারীক ডা: নিরঞ্জন রায় মহাশয়।
সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক  ডাঃ বাপ্পা ঢালী  জানান স্বাস্থ্য কর্মীরা তো যথেষ্ট ভাবে সমাজের সঙ্গে জুড়ে থাকার চেষ্টা করেন বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচির মাধ্যমে।তবে তিনি সমাজে একেবারেই পুষ্টি জনিত রোগে আক্রান্তদের পাশে সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। কারণ সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে কখনোই সমাজ এগোতে পারবে না।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন “আমরা আমাদের ব্লকের ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত টিবি মুক্ত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছি এই কর্মযজ্ঞে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সবার পাশে না দাঁড়ালে আমাদের এই উদ্দ্যেশ্য সফল হবে না। দুই দিদি যা করলেন তা অনন্য ও প্রশংসনীয়” ।

Leave a Reply