কাত্যায়নীর ব্রত করে ফিরে পেয়েছিলেন বাড়ির ইষ্ট দেবতা রাধারমন কে। তারপর থেকেই সাড়ে ৩০০ বছরের চিরাচরিত নিয়ম মেনে পূজিত হয়ে আসছে নদিয়ার শাস্তিপুরের বোনেদি বাড়ি বড় গোস্বামী বাড়ির দেবী কাত্যায়নী। কথিত রয়েছে এই বড় গোস্বামী বাড়ির কুলদেবতা শ্রীশ্রী রাধারমন জিউ পূর্বে দল গোবিন্দ রূপে পূজিত হতেন।
মানসিংহ যখন আক্রমণ করে তখন যশোরের বারো ভূঁইয়া পুরী উদ্ধার করেন। তখন তিনি পুরী থেকে একটি শৈব মূর্তি, একটি শ্রীকৃষ্ণের একক বিগ্রহ দোল গোবিন্দকে প্রাপ্ত করেন। সেই বিগ্রহ নিয়ে যশোরের তার রাজপ্রাসাদের স্থাপন করেন তিনি। পুনরায় যখন মুঘলরা আক্রমণ করে তখন সেই বিগ্রহের মানহানি হওয়ার আশঙ্কায় রাজ পরিবারের বসন্ত রায় তার গুরুদেব মধুরেস গোস্বামীর হাতে এই বিগ্রহ তুলে দেন। তখন সুদুর যশোর থেকে সেই বিগ্রহ শাস্তিপুরের গোস্বামী বাড়িতে নিয়ে আসেন মথুরেশ
গোস্বামী। স্থাপন করেন একক বিগ্রহ কে। কিছুদিনের মধ্যেই সেই বিগ্রহ অন্তরিত হন অর্থাৎ চুরি যায়, এরপর গোস্বামী বাড়ির সকলেই ভেঙে পড়েন কি করলে বিগ্রহ কে ফিরে পাওয়া যাবে। হঠাৎই শ্রীমৎ
ভাগবত থেকে পাওয়া যায়
পরিবারের
কাত্যায়নীর ব্রত করে বৃন্দাবনের গোপিনীরা শ্রীকৃষ্ণকে পেয়েছিলেন, সেই মত অনুসরণ করে গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয়। দেবী কাত্যায়নীর ব্রত। দেবী স্বপ্নাদেশ দেন নদিয়ার দিগনগরে পতিত রয়েছে বিগ্রহ, তৎকালীন নদিয়ারাজ সহযোগিতায় সেই দল গোবিন্দ বিগ্রহ উদ্ধার হয়, সেই থেকেই দেবী কাত্যায়নীর ব্রত এবং পুজো চলে আসছে চিরাচরিত রীতি মেনে। জানা যায় প্রথমে দেবীর কোন রূপ ছিল না। পরবর্তীতে স্থাপন করা হয়। দেবী মূর্তি। দেবী মূর্তিতে রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দেবীর আট হাত শিশু কন্যার ন্যায় প্রতীকী, মহিষাসুরকে দমনের জন্য দেবীর এক হাতে রয়েছে ত্রিশূল। দেবী মূর্তি মাটির সাজে সজ্জিত। অন্যান্য মূর্তির তুলনায় দেবী কাত্যয়িনীর মূর্তিতে রয়েছে আরও বিশেষ
বৈশিষ্ট্য, কার্তিক, গণেশ থাকে বিপরীতে। ষষ্ঠী থেকে শুরু হয় বোধন পুজো। বাল্য ভোগ সহ ৩৬ ব্যঞ্জনের ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। অষ্টমীতে হয় সন্ধিপুজো। বৈষ্ণব মতে দেবীর আরাধনা হাওয়াই নেই কোন বলির প্রথা। সমাজের মঙ্গল কামনার জন্য গোস্বামী পরিবার করে থাকেন মঙ্গল আরতি।
দেবী পুজোয় পুরুষের থেকে নারীদের ভূমিকা অনেকটাই বেশি। দেবীর সমস্ত ভোগ রন্ধন করে বাড়ির গৃহবধূরা। ৩৫০ বছরের প্রাচীন এই পুজোতে নেই কোন আড়ম্বর। ঠিক তেমনি শান্তিপুরের বোনেদি বাড়ি বড় গোস্বামী বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর মূর্তি গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে।
শাস্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের
পাশাপাশি গোস্বামী বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর ব্রত করতে ব্রতী হবেন অসংখ্য পুন্যার্থীরা।
