নাটকের প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে চার হাত হলো এক

Social

মলয় দে নদীয়া:- নদীয়ার শান্তিপুরে প্রথমবার একত্রিত চার নাট্যদল, শুরু হচ্ছে নাট্য উৎসব। শান্তিপুরের নাট্যচর্চায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর অবশেষে চারটি নাট্যদল—শান্তিপুর সাংস্কৃতিক, শান্তিপুর রঙ্গপিঠ, শান্তিপুর সাজঘর এবং উড়ান—একত্রিত হয়ে গঠন করল শান্তিপুর নাট্যচর্চা কেন্দ্র। এতদিন পর্যন্ত প্রত্যেক দল নিজস্বভাবে নাটক প্রযোজনা ও উৎসব করলেও এবার প্রথমবারের মতো তারা একই ছাতার তলায় একসঙ্গে পথচলা শুরু করল।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নাট্য উৎসবের সংগঠন থাকলেও শান্তিপুরে এতদিন তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এই উদ্যোগে এক নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে গেল। নাট্যচর্চা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম সম্মিলিত নাট্য উৎসব। বিশেষত্ব হল—এবারের উৎসবে বাইরে থেকে কোনো দলকে আনা হচ্ছে না, শুধুমাত্র শান্তিপুরের দলই তাদের নাটক পরিবেশন করবে।

প্রথম দিন মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘অসুখ অনন্ত’, এরপর থাকবে শান্তিপুর রঙ্গপিঠের প্রযোজনা ‘ক্ষীরের পুতুল’। দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হবে শান্তিপুর সাংস্কৃতিক-এর ‘অন্ধজালে’ এবং উড়ানের ‘দিশাহীন’। আয়োজকদের আশা, শান্তিপুরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে আগামী দিনে আরও বড় মাপের উৎসবে পরিণত করবে। সেক্ষেত্রে কলকাতার নামী নাট্যদলগুলিকেও আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য শুধু নাটক প্রদর্শনী নয়, বরং একত্রে নাটক প্রযোজনা, বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করা। চারটি দল নিজেদের পৃথক প্রযোজনা চালিয়ে গেলেও পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে নাট্যচর্চা কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে।

শিল্পীরা জানিয়েছেন, বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাঙনের সময়ে নাট্যকর্মী হিসেবে তারা একতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, যৌথ প্রচেষ্টায় নাট্যচর্চা আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে। এখন দর্শকরা এগিয়ে এলে শান্তিপুর নাট্যচর্চা কেন্দ্র ভবিষ্যতে এক নতুন নাট্য আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply