মলয় দে নদীয়া :-আজ শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার! সকাল থেকে এই বিভিন্ন প্রাচীন শিব মন্দিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। বহু প্রাচীনকাল থেকে ধর্মনগরী নদীয়ার মন্দিরের শহর শান্তিপুর। সেখানে একদিকে যেমন রয়েছে বিভিন্ন বৈষ্ণবীয় প্রাচীন মন্দির তেমনই শক্তির আরাধনার নিদর্শন। তাইতো শাক্ত এবং বৈষ্ণব ধর্মের মিলনক্ষেত্র শান্তিপুর। দেবাদিদেব মহাদেবের বহু প্রাচীন বেশ কিছু মন্দির রয়েছে এখানে, যার মধ্যে সূত্রাগর সেনপাড়ায় অবস্থিত পাশাপাশি তিন শিবের মন্দির। বর্তমানে সেই অর্থে প্রচার কিংবা প্রসার না থাকলেও একসময় শান্তিপুরের অন্যতম প্রাচীন এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামতো জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে আনুমানিক প্রায় ৩০০ বছর আগে বেশ কয়েক ঘর পুরোহিতের হাতে স্থাপিত এই মন্দিরের ইতিহাস খুব বেশি সংরক্ষিত না থাকলেও পরবর্তীতে তাদের বংশধর চ্যাটার্জি পরিবারের অনেকেই এখন সেখানে থাকেন না। এ প্রজন্মের যুবক দীপক চ্যাটার্জী জানাচ্ছেন এর আগে কখনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়নি তবে সম্প্রতি বছরখানেক আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে একটি মন্দিরের চূড়ার অংশ ভেঙে পড়ে ভগ্ন প্রায় হয়ে গেছে সে সময়কার চুন- সুরকির বেশ কয়েক শতাব্দী প্রাচীন দেওয়াল গুলি। তাই তাদের সাধ্য অনুযায়ী নির্মাণের কাজ শুরু হলেও সমগ্র মন্দির সারানোর সমর্থ্য তাদের নেই তাই পারা বারোয়ারির মাধ্যমে সমস্ত শান্তিপুরবাসী কে সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রবীণ মানুষজন জানাচ্ছেন তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা কথা অনুযায়ী এবং দেওয়ালে একটি ফলক অনুযায়ী একটি শিব মন্দির করা হয়েছিল আনুমানিক প্রায় ১৭০ বছর আগে। বাকি দুটি তারও বহু পুর্বের, তবে সে সময় ওই দুটি শিব মন্দিরের পাশে একটি নারায়ণ মন্দির ছিল সেই বিগ্রহ চুরি হয়ে যায় পরবর্তীতে গোপাল পূজা শুরু হয় সে সময় ঝুলন পূর্ণিমা কে এই মন্দির প্রাঙ্গণে মেলাও হতো তবে সেই নারায়ণ মন্দির সম্পূর্ণ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে তাই বর্তমান বারোয়ারীকে গোপাল পূজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।
তবে কালনার ১০৮ টি যেমন শিব মন্দির লোকমুখে প্রচারিত দিগনগরের রাঘবেশ্বর মন্দির শান্তিপুর তিলিপাড়ার জলেশ্বর মন্দির, প্রচারের আলোকে রয়েছে এই মন্দির হয়তো বর্তমানে ততটা প্রচার না পেলেও ঐতিহ্য এবং প্রাচীনত্তের দিক থেকে কোনো অংশেই কম নয়। এটাও হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র, দর্শনীয় স্থান ভক্তদের বিশ্বাস এবং আবেগের মন্দির।
বর্তমানে ধর্মের রাজনীতিতে মেতেছে প্রায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই মন্দিরের সংস্কার নিয়ে কারোর কোনো মাথাব্যথা নেই। এত প্রাচীন একটা ইতিহাস শেষ হতে বসেছে, এলাকাবাসীরা অবশ্য জানাচ্ছেন ভুল তাদের পক্ষ থেকেও কিছুটা রয়েছে । জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়নি এবার তারা পৌঁছাবেন সকলের কাছেই।
তবে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি, তারা বলছেন বিজেপির রাম মন্দির দেখে শান্তিপুরের সুত্রাগড় অঞ্চলে এক রাম মন্দির সংস্কারে পুরসভার চেয়ারম্যান বিধায়ক ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন হয়তো বিজেপি শিবের কথা বললে তখন উন্নয়ন হবে এই শিব মন্দিরের। তবে তাদের তরফ থেকে হেরিটেজ অন্তর্ভুক্তি হোক কিংবা মন্দির সংস্কারে সব সময় সহযোগিতা থাকবে।
যদিও স্থানীয় কাউন্সিলর পৌরসভার সিএসসি মেম্বার জানাচ্ছেন বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু বছর আগে প্রয়াত জননেতা অজয় দে একবার উদ্যোগী হয়েছিলেন কিন্তু সে সময় পরিবারের থেকে সম্মতি পাওয়া যায়নি তবে এবারও যদি তারা লিখিতভাবে জানান নিশ্চয়ই সহযোগিতা করা যাবে। তবে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির কাজ থেকে শিখতে হবে না ধর্মরক্ষার বিষয় শান্তিপুরের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির মসজিদ সংস্কার করা হয়েছে পুরসভা এবং বিধায়কের পক্ষ থেকে।
শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান জানাচ্ছেন মন্দির ব্যক্তিগত সম্পত্তি কিনা তা জানা নেই তবে দুয়ারে সরকার পাড়ায় সমাধান মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নানান প্রকল্পে তারা তাদের ইচ্ছার কথা জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই প্রাচীন মন্দির হিসাবে তারা নিশ্চয়ই সংস্কারের সহযোগিতা পেতে পারেন পৌরসভার কাছেও লিখিতভাবে জানালে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর নিশ্চয়ই দেখবেন।
