এশিয়ার অন্যতম প্রধান তাঁত শাড়ির হাট !  হস্তচালিত তাঁত শিল্পকে বাঁচাতে হস্ত চালিত তাঁত শিল্পী এবং বিক্রেতাদের ভাড়া মুকুব হাট মালিকের

Social

মলয় দে নদীয়া :-দুর্দশায় শান্তিপুরের ঐতিহ্যমন্ডিত তাঁতের শাড়ি। বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যেতে চলেছে হস্ত চালিত তাঁত এবং তাঁতের শাড়ি। রেপিয়ার মেশিন কিংবা পাওয়ার লুম, আধুনিক যন্ত্র গ্রাস করেছে হস্তা চালিত তাঁতকে। এবার তাঁত শিল্প এবং তাঁত শিল্পীদেরকে বাঁচিয়ে রাখার এবং শান্তিপুরের ঐতিহ্য বাংলার তাঁতের শাড়িকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ শান্তিপুর শহরের অতী প্রাচীন তাঁত কাপড়ের হাট ঘোষ মার্কেট তাঁত কাপড়ের হাটের। হার্ট কর্তৃপক্ষের তরফে এবার তাঁত শিল্পীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ। যারা হস্ত চালিত তাঁত শিল্পী এবং যারা শুধুমাত্র হস্ত চালিত তাঁতের শাড়ি বিক্রি করেন সেই সমস্ত তাঁত শিল্পীদের জন্য এবার বিনামূল্যে বসতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য কোন শাড়ি কিংবা ভিন রাজ্যের শাড়ি নয় শুধু শান্তিপুরের এবং বাংলার হস্ত চালিত তাদের শিল্পীদেরকেই দেয়া হবে বিনামূল্যে এই চালা তা সে যেখানকার শিল্পী হোক না কেন। হাট কর্তৃপক্ষের মতে প্রায় ৫০০টিরও বেশি চালাক বর্তমানে তৈরি রয়েছে তাদের জন্য। মূলত তাঁত শিল্পীরা মহাজনের মাধ্যমে ব্যবসা করেন এবার তাদের নিজস্ব প্রোডাক্ট সরাসরি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন হাটের বর্তমান কর্ণধার বিভাস ঘোষ। এদিন তার ঠাকুরদা এবং এই হাটের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় সুভাষচন্দ্র ঘোষের আবির্ভাব এবং তিরোধান দিবস উপলক্ষে বাংলার তাঁতের শাড়িকে বাঁচিয়ে রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানান তিনি কারণ তিনি নিজেও ছিলেন একজন তাঁত শিল্পী। যদিও বা হাতেগোনা কয়েকটা তাঁত শ্রমিক বর্তমানে রয়েছে তাই কি চালা বিক্রির জন্য ব্যবসায়িক কৌশল! প্রশ্নের উত্তরে বিভাস ঘোষ জানান এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই হাটের প্রচার লাগেনা, যদি মুষ্টিমেয় কয়েকজন এই চালায় এসে তাদের নিজস্ব প্রোডাক্ট অর্থাৎ হস্ত চালিত তাঁতের শাড়ি বিক্রি করতে চান তাহলে তিনজনকে নিয়েই শুরু হবে এই তাঁত শাড়ি কে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস। অতীতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলাদেরকে দিয়ে তাঁত শাড়ি জগত দরবারে আনার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল এই হাট কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে সেটাও তলানিতে।এ বিষয়ে হাটের বর্তমান মালিক বিভাস ঘোষ জানান বর্তমানে একটু অসুবিধে চলছে। পুজোর আগে সমস্ত মহিলারা আবারও তাঁতের শাড়ি সম্ভার নিয়ে হাঁটে আসবে এবং তারা তাঁতের শাড়ি বিক্রি করবে। তবে প্রচার কিংবা ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য নয় শুধুমাত্র বাংলার তথা শান্তিপুরের তাঁত শাড়িকে বাঁচাতেই তাদের এই উদ্যোগ বলে জানান হাটের মালিক বিভাস ঘোষ। যদিও এ বিষয়ে তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় খুব ভালো উদ্যোগ এবং অতীতে যেভাবে তাঁত শাড়ি র সুনাম ছিল বিশ্ব দরবারে বর্তমানে তা দুর্দশায়! তবে হাট কর্তৃপক্ষ যে চিন্তাভাবনা নিয়েছে সেই রকম সকলেই যদি একটু একটু করে ভাবে তাহলে হয়তো তাঁত শিল্পের জৌলুষ পুরোপুরি ফিরে না এলেও জীর্ণতা কিছুটা কমবে।

Leave a Reply