মলয় দে: মুঠো ফোনে বন্দী শৈশব! সরস্বতী পুজোয় সচেতনতার বার্তা বিদ্যালয়ে ।পুজো মণ্ডপ থেকে ছোটদের হাতে মোবাইল নয়, বই তুলে দেওয়ার আহ্বান নবদ্বীপে।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হলো শিশু-কিশোরদের মোবাইল আসক্তি। খেলাধুলা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা—সব কিছু ছাপিয়ে এখন ছোটদের শৈশব যেন বন্দী হয়ে পড়েছে মুঠোফোনের স্ক্রিনে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়কেই এবার সরস্বতী পুজোর থিম হিসেবে তুলে ধরেছে নবদ্বীপের বকুলতলা ফীডার ইন্সটিটিউশন।
এবারের পুজোর ভাবনা— “মুঠো ফোনে বন্দী শৈশব”। এই ভাবনার মাধ্যমে ছোটদের মোবাইল নির্ভরতা থেকে দূরে সরিয়ে বই, শিক্ষা ও সৃজনশীলতার দিকে ফেরানোর বার্তা দিচ্ছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পুজো মণ্ডপের সজ্জায় ফুটে উঠছে এক বাস্তব ছবি—একদিকে মোবাইলে ডুবে থাকা শিশুরা, অন্যদিকে বই, খাতা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মগ্ন আনন্দময় শৈশবের চিত্র। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করলেই এই বৈপরীত্য চোখে পড়বে এবং ভাবতে বাধ্য হবেন বর্তমান প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
সকাল থেকেই ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সকলে। এই পুজোর মাধ্যমে শুধু দেবী আরাধনাই নয়, সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে চাইছে বকুলতলা ফীডার ইন্সটিটিউশন—
“মোবাইল নয়, জ্ঞানই হোক শিশুদের প্রকৃত সঙ্গী”।
এই ব্যতিক্রমী ভাবনা ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সরস্বতী পুজোর আনন্দের সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার এই মেলবন্ধন নজর কাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।
