১৬৮ জন টিবি রোগীকে দত্তক ব্লক প্রশাসনের ! নদীয়ায় বাড়ছে নিক্ষয় মিত্রের সংখ্যা

Social

Social Barta: নদীয়া জেলার তেহট্ট ১ ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মাননীয় সঞ্জীব সেন এর উদ্যোগে এবং যুগ্ম ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর সহযোগিতায় ২০২৫ সালে মোট ১৬৮ জন টিবি রোগীকে দত্তক নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করলেন। সোমবার ৫০ জন টিবি রোগীর হাতে ফুড বাস্কেট তুলে দেওয়া হলো। ।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক নিরঞ্জন রায় বলেন, “আমাদের তেহট্ট ১ বিডিও অফিস সম্পূর্ণভাবে আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিশেষ করে টিবি মুক্ত করার লক্ষ্যে সর্বতোভাবে সাহায্য করছে”।

উল্লেখযোগ্য এই ব্লকের সিনিয়র পি এইচ এন, এসটিএস এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান চিকিৎসা পরিষেবার দেবার পাশাপাশি একজন করে টিবি রোগীকে দত্তক নিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত রাখলেন ।যদিও প্রত্যেক টিবি পেশেন্ট চিকিৎসা চলাকালীন মাসিক ১০০০ টাকা করে পুষ্টি সহায়তা মূলক ভাতা পান কিন্তু একজন টিবি পেশেন্টর জন্য তা যথেষ্ট নয়।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: নিরঞ্জন রায় আরও বলেন”বর্তমানে আমাদের জেলায় টিবি রোগের মৃত্যুর হার কমাতে জেলা কর্তৃপক্ষ যেমন সচেষ্ট হয়েছে সেই সঙ্গে আমরাও আমাদের ব্লকের পঞ্চায়েত গুলি টিবি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা জানি, নিক্ষয় মিত্র হিসেবে সমাজের যেকোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ,গোষ্ঠী সম্প্রদায় এগিয়ে আসতে পারেন এবং একজন টিবি রোগীকে ন্যূনতম ৬ মাসের জন্য দত্তক নিয়ে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিতে পারেন”।

এ বিষয়ে জেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৫ সালে নিক্ষয় মিত্রের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে সেইসঙ্গে অনেক সমাজকর্মী , প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদেরকে সাহায্য করছেন। তাতে তাদের চিকিৎসা চলাকালীন যে পুষ্টি প্রয়োজন তা অনেকাংশেই পূরণ হচ্ছে ফলত জেলায় বর্তমান যক্ষ্মা রোগের দ্বারা মৃত্যুর হার অনেকটাই কমেছে। জেলা যক্ষা আধিকারিক ডাঃ পার্থ প্রতিম পাত্র জানান ” জেলায় আমার সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা সংবেদনশীল, তারা যত্ন সহকারে টিবি রোগীদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন এর সঙ্গে যদি সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ, প্রতিষ্ঠান মানবিক মুখ নিয়ে টিবি রোগীদের পাশে এসে দাঁড়ান তাহলে আমার জেলা তথা রাজ্যকে ও দেশকে টিবি মুক্ত করতে আমরা সফল হব”।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক মাননীয় ডা: রঞ্জিত কুমার দাস জানান ,”গত বছর তেহট্ট ১ ব্লক টিবিমুক্ত পঞ্চায়েত প্রোগ্রামের অংশগ্রহণ করেছিল ২টি পঞ্চায়েত নিয়ে। এবছর তারা তেহট্ট ১ বিডিও অফিসের আধিকারিকের সহযোগিতায় বাকি ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলে মোট ১১টি পঞ্চায়েত কে টিবি মুক্ত করতে চলেছে এর জন্য বিডিওকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তিনি এও জানান আশা করি জেলার বাকি ব্লক মিউনিসিপ্যালিটি সবার উদ্যোগে আমাদের জেলাকে টিবি মুক্ত করতে সক্ষম হবে।”

Leave a Reply