সোশ্যাল বার্তা: নদীয়ার আসাননগর মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলেজের পক্ষ থেকে দত্ত গ্রামের কাশিপুর ব্যাসবেরিয়া নামক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য একটি অভিনব উদ্যোগ গৃহীত হয়। বিদ্যালয়ের মোট ৫০ টি বাচ্চাকে কলেজের পক্ষ থেকে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য একটি করে মাটির ভাণ্ডার, খাতা ও পেন বিতরণ করা হয় এবং শেখানো হয় সঞ্চয়ের পাঠ।
বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা থাকলেও অভিভাবক প্রদত্ত পয়সা তারা ক্ষতিকারক ফাস্ট ফুড ক্রয়ে ব্যয় করে নিজেদের জন্য বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার আমদানি করে। এই ক্ষতিকারক পদক্ষেপ থেকে তাদের মুক্ত রাখতে এই সঞ্চয়ের শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। বছর শেষে তাদের ভাণ্ডারে সঞ্চিত অর্থ এবং তাদের খাতায় নথিভুক্ত সেই অর্থের হিসাব বরাবর পাওয়া গেলে কলেজ সেই বাচ্চাদের পুরস্কৃত করবে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের যোগফল সম্পর্কে ধারনা ও সঞ্চয়ের মূল্যবোধ গড়ে উঠবে যা তাদের পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে।
আসাননগর কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ড. অশোক কুমার দাস জানান ‘প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে সঞ্চয়ের প্রয়োজন আছে। এই সঞ্চয়ের অভ্যাস প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট থেকেই গড়ে তুলতে হবে তাদের ভবিষ্যত জীবনের প্রশ্নে’। কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ পোদ্দার জানান ‘ সঞ্চয়ের শিক্ষা কেবল অর্থগত দিক থেকে নয়, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, মূল্যবোধ সঞ্চয়ের শিক্ষাও লাভ করুক শিক্ষার্থীরা’ ।

কলেজের শিক্ষা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সাহা জানান ‘ গান্ধীজির বুনিয়াদি শিক্ষায় যেমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক শিক্ষা প্রদানের প্রথা রয়েছে ঠিক একই ধাঁচে আমাদের এই প্রচেষ্টা। এখানে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন সঞ্চয় কি বা এর অর্থ কি তা বুঝবে, তার সঙ্গে যোগ – বিয়োগ শিখবে এবং সেই সাথে যে অর্থ সঞ্চয় করবে তা তাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে’। আজকের বিষয় নিয়ে কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. চিরন্তন সরকার এবং ড. রেজওয়ান আহমেদও তাদের জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখেন। এই কর্মকাণ্ড কতটা সফল হয়েছে তা আগামীতেই বোঝা যাবে।
