পিতা টোটোচালক ! প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগে দৃষ্টান্ত স্থাপন বৃষ্টি’র, হতে চায় ভূগোলের শিক্ষিকা

Social

মলয় দে নদীয়া :- নদীয়ার ম শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের টেংরি ডাঙ্গার বাসিন্দা হালিফুদ্দিন মন্ডলের বৃষ্টি এবং পিপাশা দুই মেয়ে।প্রত্যান্ত গ্রামের মধ্যে একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই মেয়েকে টোটো চালানোর উপার্জনে পড়াশোনা করান। বিপাশা সপ্তম শ্রেণীতে বৃষ্টি এবার উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো। শুধু পাশই নয়, রীতিমতো শহরের নামিদামী বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পেছনে ফেলে শান্তিপুরের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছে সে।

পরিবা সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে কেউ সেভাবে পড়াশোনার না জানার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহশিক্ষক রাখতেও পারেননি অভাবের কারণে। আশেপাশের গ্রামের কোনো কোনো গৃহশিক্ষক তাকে সহযোগিতা করতো।বিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষিকারা নিয়মিত খোঁজখবর নিলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিলো বিদ্যালয়।

বাবার টোটোতেই, ভিন পাড়ার মাস্টার মশায়ের কাছে পড়াশোনা শিখতে যাওয়া। আজ যখন মেয়ের সাফল্যের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে তখনও হালিফুদ্দিন মন্ডল টোটো নিয়ে ভাড়া গেছেন নবদ্বীপে। মেয়ের সাথে কথা হয়েছে বেশ কয়েকবার। ভূগোলে ৯৯ দর্শনে ৯৭ সংস্কৃতিতে ৯৬ বাকী বিষয় মিলিয়ে কলা বিভাগে পেয়েছে ৪৭৬ । প্রত্যন্তগ্রাম থেকে বেরিয়ে সারা বিশ্বকে চিনতে চায় সে।

এরপর ভূগোলের দিদিমণি হয়ে এইরকমই প্রত্যন্ত এক গ্রামের স্কুলের ছাত্রীদের সারা বিশ্ব চেনাতে চায় সে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ টোটো নয়, বাবা সেদিনও তাকে নিয়ে যাবে চারচাকা সুরক্ষিত অত্যাআধুনিক গাড়িতে পরিবার তো বটেই গোটা গ্রাম, স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরাও বৃষ্টির বর্ষনের প্রতীক্ষায়।

Leave a Reply