সারা রাজ্য জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো বৃত্তি পরীক্ষা

Social

মলয় দে নদীয়া:-একসময় বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি মিলতো না, কোথাও শুকনো লঙ্কার গোডাউনে বসে কোথাও বা গাছ তলায় পরীক্ষা নেওয়ার প্যারালাল ব্যবস্থা চলত সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে। তবে পূর্বের বামফ্রন্ট সরকার হোক কিংবা বর্তমান শাসক দল তৃণমূল, সহযোগিতা আজও যে আছে তা নয় কিন্তু অভিভাবকদের বিপুল পরিমাণে সমর্থনে বৃত্তি পরীক্ষা এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনের নিরিখে জনপ্রিয়।

প্রাথমিক স্তর থেকে পরীক্ষায় পাশ ফেল তুলে দেওয়া এবং চতুর্থ শ্রেণীর শেষ পরীক্ষা উঠে যাওয়ার পর 1992 সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ প্রতিবছর আয়োজন করে থাকে বৃত্তি পরীক্ষা।
কারণ সে সময় বহু অভিভাবক শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা প্রেমীরা উপলব্ধি করেছিলেন মূল্যায়ন না হলে ছাত্রছাত্রীদের মেধাউৎকর্ষতা এবং উৎসাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না। সরকার পাশে না থাকলেও সারা পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপী এত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এডমিট কার্ড পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তরপত্র মার্কশিট ও সার্টিফিকেট যথাসময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া পরীক্ষার খাতা দেখা এই সবই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের স্বেচ্ছায় শ্রম দেওয়ার ফলেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
আজ ৯ ইঅক্টোবর থেকে ২০২৫ বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হল সারা রাজ্য জুড়ে। চলবে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত । বাংলা অংক সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞান ইংরেজি এই মোট পাঁচটা বিষয়ের মধ্যে বিজ্ঞান ও ইংরেজি পূর্ণমান ৫০ বাকি তিনটি বিষয় ১০০। মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বরের বিচারে রাজ্যস্ত করে ১২০০ টাকা এবং জেলাস্তরে ৬০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে যদিও এই অর্থ শিক্ষ দরদী মানুষের সহযোগিতায় গড়া তহবিল থেকে দেওয়া হয়। তাই বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা বৃত্তি প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট নম্বর প্রতিবছর সমান হয় না।
পরীক্ষার সময় সকাল ৭:১৫ মিনিট থেকে ৯ঃ৪৫।
নদীয়া দক্ষিণে ৪৩ টি সেন্টারে ৩৭৭৪ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবছর। যার মধ্যে শান্তিপুরে একমাত্র এমএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সুধারানী বঙ্গ ভবনে এবছর বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২৫৪ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে।
অভিভাবকরাও এ বিষয়ে প্রচন্ড উৎসাহী বলে জানিয়েছেন তাদের মতে মাঝেমধ্যে মূল্যায়ন হলে তবেই ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ঘাটতি বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহ কিংবা কোন কারণে অনুৎসাহ তা বোঝা সম্ভব হয়। সেই কারণে পর্ষদের সকল কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় এই শ্রম এবং মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Leave a Reply