বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নদীয়া থেকে মানিকতলা ১৪ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন দেবী দুর্গা

Social

মলয় দে নদিয়া:-প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সঙ্গী করেই শান্তিপুরের মৃৎশিল্পী সৌরাজ বিশ্বাসের কারখানা থেকে রবিবার রওনা দিলেন উমা, পূজিত হতে কলকাতার মানিকতলা ১৪ পল্লী বারোয়ারির মণ্ডপে। দুর্গাপূজা আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। সোমবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে কপালে ভাঁজ পড়েছে জেলার বিভিন্ন কুমোর বাড়ির মৃৎশিল্পীদের। প্রতিমা প্রায় তৈরি হলেও এখনো দরকার ছিল রোদের তাপে শুকোনোর। কিন্তু আকাশের অনিশ্চিত আবহাওয়া, ক্ষণিকের রোদ আর দিনের পর দিন টানা বৃষ্টিতে সেই কাজ অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। তবুও বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেই মৃৎশিল্পীদের শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ চলছে পুরোদমে।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা মানেই প্রতিমা ও মণ্ডপে সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতা। কলকাতার কুমোরটুলি যতই প্রতিমা নির্মাণের কেন্দ্রবিন্দু হোক না কেন, জেলার মৃৎশিল্পীরাও পিছিয়ে নেই। বহু শিল্পী গ্রামেই নিজেদের কারখানায় প্রতিমা গড়ে তুলে তা পৌঁছে দেন মহানগরের নানা পুজো মণ্ডপে। শান্তিপুরের সৌরাজ বিশ্বাস তাঁদের মধ্যে অন্যতম। কয়েক বছর ধরেই তিনি কলকাতার বিভিন্ন বিখ্যাত বারোয়ারির জন্য প্রতিমা তৈরি করছেন। তবে নিজের কারখানাতেই গড়ে তোলেন দেবীকে, পরে পুজো কমিটির সদস্যরা এসে নিয়ে যান সেই সৃষ্টিকর্ম।

এবার মানিকতলা ১৪ পল্লী বারোয়ারির জন্যই দুর্গা প্রতিমা গড়েছেন সৌরাজবাবু। হলুদ আভায় সজ্জিত মা দুর্গা, সিংহাসনে আসীন। দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। মায়ের মুখচ্ছবি থেকে সাজপোশাক, অলঙ্করণ—সবকিছুতেই ফুটে উঠেছে শান্তিপুরের শিল্পীদের নৈপুণ্য। আজ সকাল থেকেই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিমা আনার তোড়জোড় শুরু হয়। টানা বৃষ্টির মাঝেই সাবধানে প্লাস্টিকের মোড়কে ঢেকে সড়ক পথে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে প্রতিমা।

মানিকতলা ১৪ পল্লী পুজো কমিটির সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, “এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর আমরা সৌরাজদার কারখানা থেকে মূর্তি নিয়ে যাচ্ছি। এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথম তাঁর খোঁজ পাই। গত বছরই অর্ডার দিই এবং মূর্তি দেখে আমরা অভিভূত হই। তাই এ বছরও আবার শান্তিপুর থেকে মূর্তি আনা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার কারণে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। তবে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করেই প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিল্পী সৌরাজ বিশ্বাসও বলেন, “বৃষ্টি আমাদের অনেক সমস্যার মধ্যে ফেলেছে, তবে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারাটা এক বড় সাফল্য।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও উপেক্ষা করে শিল্পীরা প্রমাণ করলেন তাঁদের একাগ্রতা আর নিষ্ঠার জোরেই কলকাতার পুজোমণ্ডপ রাঙিয়ে তুলতে চলেছে শান্তিপুরের মৃৎশিল্পের অনন্য সৃষ্টি।

Leave a Reply